দক্ষিণ দিনাজপুর হরিরামপুর : ছায়া বৃক্ষ বাংলার বট। আমাদের দেশে বট পরিবারের বেশ কিছু গাছ দেখা যায়। তার মধ্যে বিদেশ থেকে সদ্য আমদানি করা ৮ থেকে ১০ রকমের বটগাছও আছে। বিদেশ থেকে আসা গাছগুলোর কয়েকটি এখন টবেও চাষ হচ্ছে। নতুন-পুরনো মিলিয়ে সংখ্যা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি। ডুমুর বা যজ্ঞডুমুরও কিন্তু এই পরিবারেরই সদস্য। একই পরিবারের হলেও বটগাছের সঙ্গে এদের তেমন কোনো মিল নেই। খুব সহজেই যেন আমরা তাদের চিনতে পারি সে জন্য তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা নাম আছে। কিন্তু সার্বিকভাবে আমরা এ ধরনের সব গাছকে বটগাছ নামেই ডাকি। বংশবৃদ্ধির কৌশলেও এরা অভিন্ন। মঞ্জরির গর্ভে ফুলগুলো লুকানো থাকে। ফুলেরা খুবই ছোট এবং ফলের মতোই গোল। একলিঙ্গিক এই ফুলগুলো পরাগায়ণের জন্য বিশেষজাতের পতঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। পাখিরা ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে দেয়। পাখিবাহিত এই বীজ দালানের কার্নিশ, পুরনো দালানের ফাটল ও অন্য কোনো গাছের কোটরে সহজেই অঙ্কুরিত হয় এবং আশ্রয়কে গ্রাস করে। এ কারণে উপগাছা হিসেবেও বটের খ্যাতি আছে। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বটগাছ ৫ থেকে ৬শ’ বছর বেঁচে থাকতে পারে।বটগাছ আমাদের গর্বের ধন। কারণ এমন একটি বিশাল আয়তনের ছায়াবৃক্ষের জন্মস্থান এই বঙ্গভূমি। যখন কোনো দূরের দেশে গিয়ে বটগাছ দেখি এবং গাছটির বৈজ্ঞানিক নামের শেষাংশে benghalensis শব্দটা দেখতে পাই তখন বুকটা আনন্দে ভরে যায়। তাছাড়া বট এই অঞ্চলের আদিতম বৃক্ষ। বটগাছকে ঘিরে গড়ে উঠেছে আমাদের শত-সহস্র বছরের ঐতিহ্য। সেই প্রাচীনকাল থেকেই বটবৃক্ষের ছায়ায় হাট-বাজার বসে, মেলা হয়, লোকগানের আসর বসে, জনসভা হয়। এর একটা কারণও আছে। আমাদের তো বড় বড় সুশীতল হলরুম নেই। তাহলে কীভাবে হবে বড় বড় অনুষ্ঠান ও জনসভা? এতদিন ধরে আমাদের সেই অভাবটাই পূরণ করে আসছে ছায়াসুনিবিড় বটতলা।অন্যান্য গাছপালার মতো বটগাছও আমাদের বন্ধু। গাছটির সব আয়োজন মানুষের কল্যাণেই নিবেদিত। যে বৃক্ষটি আমাদের এত কল্যাণ সাধন করছে, ছায়া-মায়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করে বাঁচিয়ে রাখছে তার ঐতিহ. চিত্র ও তথ্য —— সোমেন পাল
Post Top Ad
Responsive Ads Here
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Post Bottom Ad
Responsive Ads Here
No comments:
Post a Comment